কুকুর কামড়ানোর কারণে জলাতঙ্ক ঝুঁকি।

কুকুর কামড়ানোর কারণে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকা ব্যাপারটা অনেক স্বাভাবিক। কুকুরকে যদি ভ্যাকসিন না দেওয়া  হয় বা  কুকুর যদি পথে ঘাটের কুকুর হয় এবং অসুস্থ থাকে তাহলে তার কামড়ানোর কারণে জলাতঙ্ক হওয়ার ব্যাপারটা স্বাভাবিক কিন্তু এটি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তাই বাংলাদেশের গৃহস্থলীতে পোষা প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে কুকুর। কুকুর কারো  ভালো লাগে। বাংলাদেশের অনেক লোক কুকুর পালন করে। 

কুকুর কামড়ানোর কারণে জলাতঙ্ক ঝুঁকি
 

কুকুর কামড়ালে জলাতঙ্ক হওয়ার ঝুঁকি একটু বেশি থাকে, কারণ আক্রান্ত কুকুরের লালার মাধ্যমে ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করে,এটি প্রায় ৯৯ ভাগ মারাত্মক হলেও সময় মতো সঠিক চিকিৎসা (ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা ও এন্টি -র‍্যাবিস ভ্যাকসিন নেওয়া) করলে পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব। কামড়ানোর সাথে সাথে সাবান ও পানি দিয়ে ক্ষতস্থান ভালোভাবে ধোঁয়া এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ লক্ষণ দেখা দিলে আর বাঁচানোর উপায় থাকে না 

পেজ সূচিপত্র :কুকুর কামড়ানোর কারণে জলাতঙ্কের ঝুঁকি। 

কুকুর কামড়ানোর কারণে জলাতঙ্কের ঝুঁকি।

কুকুর একটি মানুষ ভক্ত ও প্রভুভক্ত প্রাণী। এবং এই প্রাণী খুব সহজে মানুষকে বিশ্বাস ও ভরসা করতে পারে। এছাড়াও কুকুরের মধ্যে খারাপ শক্তি শোষণ করার ক্ষমতা আছে। যার কারনে মানুষ যদি তাদের কাছে থাকে বা শরীরে হাত নাড়িয়ে দেই ধরে তারা শান্তি অনুভব করে। কিন্তু কুকুর কামরানোর ব্যাপারে ও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ কুকুর কামড়ালে জলাতঙ্ক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। জলাতঙ্ক হয় রেবিস ভাইরাস ছড়ানোর কারণে। কুকুর যদি অসুস্থ হয় বা তাকে ভ্যাকসিন না দেওয়া হয় তাহলে রেবিস ভাইরাস ছড়ানোর কারণে তার বিষাক্ত লালা মানুষের রক্তে প্রবেশ করে জলাতঙ্ক রোগ ছরিয়ে দিতে পারে। 

কুকুর কামড়ানোর কারণে জলাতঙ্ক ঝুঁকি


জলাতঙ্ক রোগ যদি ভয়াবহ পর্যায়ে চলে যাই তাহলে সেই মানুষ মৃত্যুবরণ করতে পারে। সাধারণ পথের বা বন্য কুকুর ও হিংস কুকুর গুলোর মাধ্যমে এই জলাতঙ্ক হতে পারে। কুকুর কামড় দিলে অনেক রক্তপাত হয়। যদি রক্তপাতের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে তাহলে এটি দ্রুত মৃত্যুর দিকে নিয়ে যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে কুকুর কামড়ানো অনেক গভীর কিনা। তাহলে প্রাথমিক চিকিৎসা করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে বড় বিপদ থেকে বাঁচানো যাবে। 

আচড়-কামড় ছাড়াও যখন টিকা প্রয়োজন। 

পথের কোন বিড়াল বা কুকুরকে খাবার দেওয়ার সময় বা আদর করার সময় একটি বিষয় খেয়াল রাখবেন। যে প্রাণীটি গিয়ে খাবার দিচ্ছেন, সেটিকে হয়তো  জলাতঙ্ক টিকে দেওয়া নেই এবং ওই প্রাণী ভালোবেসে আপনার বা আপনার সন্তানের হাত-পা চেটে দিয়েছে এবং হয়তো আপনার ত্বককে ওই অংশে আগের থেকেই ক্ষত  আছে এমন ক্ষেত্রে ওকিন্তু ক্ষতটি  পরিষ্কার করতে হব।

জলাতঙ্কের টিকার সব কয়টি  টিকে দিতে হবে। প্রথম দিন ইমিউনো গ্লোবিউলিন ইনজেকশনও দিতে হবে। কিন্তু আগের থেকে কোন ক্ষত না থাকলে কুকুর বা বিড়াল হাত পা চেটে দেওয়ার পর কোন কিছুই করতে হবে না। একটু ভালোভাবে হাত পা সাবান দিয়ে ধুয়ে নিলেই চলবে। কোনভাবেই বিড়াল বা কুকুরের লালার স্পর্শে এলে তা খেয়াল রাখুন। আপনার তথ্যটি অক্ষত কিনা। অক্ষত হলে আর  চিন্তার কিছু নেই। 

কুকুর কামড়ালে জলাতঙ্কের লক্ষণ। 

সন্দেহজনক প্রাণীর কামড়ানোর ১৪থেকে ৪২দিনের মাঝে জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা যায়। কারো শরীরে জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে উন্মত্ত বা পাগলে মত আচরণ এবং মৌন আচরণ -এই দুই ধরনের আচরণ দেখা দিতে পারে। অস্বাভাবিক আচরণের আক্রান্ত ব্যক্তির কথাবার্তা ও ভাবভঙ্গি হবে অস্বাভাবিক। সে কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই ছুটে বেড়াবে, ক্ষুধা মন্দা হবে, বিকৃত আওয়াজ করবে।বিনা কারণে অন্যকে কামড়াতে আসবে ইত্যাদি। 

এছাড়াও পানির পিপাস খুব বেড়ে যাবে, তবে পানি খেতে পারবে না। পানি দেখলে আতঙ্কিত হবে ভয় পাবে। আলো বাতাসের স্পর্শে এলে আতঙ্ক আরও বেড়ে যাবে। খাবার খেতে খুব কষ্ট হবে খেতে পারবে না। শরীরে কাঁপুনি মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ হবে। কণ্ঠস্বর আলাদা হয়ে যেতে পারে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাবে আক্রমণত্নাক আচরণ দেখা দিবে। শরীর নিস্তেজ হয়ে ঝিমুনি আসতে পারে। মানুষের চোখের আড়ালে থাকা, শরীরের কাপুনিও দেখা দিতে পারে। 

জলাতঙ্ক প্রতিরোধ। 

এলাকার সব কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজনে তাদের বন্ধ্যাকরণের ব্যবস্থা করুন। এমন কাজে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিতে পারেন। প্রয়োজনে এলাকার সবাই মিলে নিকটস্থ প্রাণী চিকিৎসকের সহায়তায় এই দুটি কাজের উদ্যোগ নিন। সবাই মিলে এমন উদ্যোগ নেওয়া কঠিন কোনো ব্যাপার নয়। এমন উদ্যোগে নিরাপদ থাকবে আপনার পরিবার। ক্ষত হলে কী করবেন, তা তো জানা থাকলই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নিন।

প্রাণীদের ভালোবাসুন। মনে রাখবেন, অকারণে এসব প্রাণী মানুষকে কামড়ায় না। তাই আতঙ্কের কিছু নেই। অনেকে প্রাণীদের ঢিল মারে, বিরক্ত করে, কিংবা বিশ্রামের জায়গা থেকে তাড়িয়ে দেয়। বাস্তবতা হলো, মানুষের নির্মম আচরণের কারণে প্রাণীরা উত্তেজিত হয়। তখন কামড়ানোর ঘটনা ঘটে। তাই এমন আচরণ থেকে বিরত থাকুন। এলাকার শিশুদেরও সেই শিক্ষা দিন। আর খাবার দিয়ে, আদর দিয়ে ওদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নিলে ওরা এমনিতেও কামড়ায় না।

আরও পড়ুন :

বাচ্চা কুকুর কামড় দিলে ব্যক্তির প্রয়োজন কিনা। 

সাধারণত এক মাস বয়সী কুকুরের বাচ্চাদের রেবিসিস ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি কম থাকে কিন্তু সতর্কতার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। যদি কুকুরটি ঘরের মধ্যে থাকে তাহলে এর ঝুকি কম। কিন্তু যদি বাহিরে থাকে বা অন্য কুকুরের স্পর্শে যায় তাহলে  ঝুঁকি বেড়ে যায় বাচ্চা বিড়াল কামড় দিলে ভাইরাজের ব্যাপকতা একটু কম থাকে এবং প্রতিরোধমূলক টিকা দেওয়া লাগে না থাকলে কামড়ানোর পরে টিকা ডোজ  একটু কম হতে পারে। 

কুকুর কামড়ানোর কারণে জলাতঙ্ক ঝুঁকি

যদি বাচ্চা কুকুরটির ভ্যাকসিন না করানো হয় তাহলে দোষের কোন প্রয়োজন নেই তবুও একবার চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিলে ভালো হয়। সাধারণত বাচ্চা কুকুর কামড়ানোর টিকা দেওয়া হয় যার নাম হল রেডিস ভ্যাকসিন ও টিটোনাস ইনজেকশন। টিটোনাস ইনজেকশন এর পর প্রয়োজন পড়ে যখন রক্তপাত ও ক্ষতির  গভীরতা অনেক বেশি হয়। কিন্তু বাচ্চা কি কুকুর কামড়ানোর জন্য এর ঝুঁকি কম থাকে তবুও কুকুর জন্মানোর পর ঈদের সবার মত ভ্যাকসিন করা প্রয়োজন। 

বাংলাদেশের জলাতঙ্ক টিকার দাম ও প্রাপ্যতা 

সরকারি হাসপাতাল :বাংলাদেশের সকল জেলা সদর হাসপাতাল এবং কিছু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের টিকা বিনামূল্যে পাওয়া যায়। 

বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক :বেসরকারি পর্যায়ে প্রতি ডোজ টিকার দাম ব্যান্ডভেদে ৭০০থেকে থেকে ১২০০টাকা বা তার বেশি হতে পারে। সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করতে ৪-৫হাজার টাকা লাগতে পারে। 

শেষ কথা :নিশ্চয়ই কুকুর কামড় না দিলে আপনার জলাতঙ্ক রোগ হতে পারে। কারণগুলো হতে পারে :
১।কুকুরকে স্পর্শের মাধ্যমে আপনি জীবাণু সংক্রমিতহতে পারে। 
২কুকুরের লালা আপনার হাতে বা অন্য অঙ্গ পতঙ্গের মাধ্যমে দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ থেকে আপনি জীবাণু সংক্রামিন্ত হতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ বাধ্যতামূলক। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

বক্কর ২৫ ডটকম নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md.Abu bokkor
আমি মোঃআবু বক্কর আপনাকে যে সকল বিষয়ে সার্ভিস প্রদান করব। আমি একজন প্রফেশনাল ডিজিটাল মার্কেটিং SEOএক্সপার্ট এবং অনলাইন ইনকাম ও ব্লগিং লাইফ স্টাইল ও তথ্য প্রযুক্তি প্রযুক্তি নিয়ে লেখালেখি করে থাকি।